উরুগুয়েকে আটকে সৌদি চমক, ১-১ গোলে শেষ লড়াই

আজকের খেলা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল সৌদি আরব। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দলটি দেখিয়ে দিল, আধুনিক ফুটবলে তাদের আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে আব্দুলেলাহ আল-আমরির গোলে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। দীর্ঘ সময় সেই লিড ধরে রাখার পর ৮০তম মিনিটে ম্যাক্সি আরাউহোর গোলে সমতায় ফেরে উরুগুয়ে। তবে পুরো ম্যাচে সৌদি আরবের লড়াকু মানসিকতা ও কৌশলগত শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সংগঠিত রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল

ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদি আরব নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কাছে না থাকলেও তারা রক্ষণকে সুসংগঠিত রেখেছে। উরুগুয়ের আক্রমণভাগে থাকা অভিজ্ঞ ও তারকা ফুটবলারদের খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি সৌদি ডিফেন্ডাররা।

প্রথমার্ধে একটি কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আব্দুলেলাহ আল-আমরি গোল করেন। গোলের পর সৌদি আরব আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে পরিশ্রমী ফুটবল এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে তারা উরুগুয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। অন্যদিকে উরুগুয়ে ম্যাচের বড় অংশজুড়ে বলের দখল রাখলেও কাঙ্ক্ষিত ধার খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৮০তম মিনিটে ম্যাক্সি আরাউহোর গোল তাদের হার এড়াতে সাহায্য করে।

সৌদি ফুটবলের উত্থানের পেছনে সৌদি প্রো লিগ

গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের ফুটবল যে গতিতে এগিয়েছে, তার বড় কারণ দেশটির ফুটবল অবকাঠামো ও সৌদি প্রো লিগের উন্নয়ন। বিশ্বের শীর্ষ তারকাদের আকৃষ্ট করে লিগটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেঞ্জেমা, নেইমার, সাদিও মানে কিংবা রিয়াদ মাহরেজের মতো ফুটবলারদের উপস্থিতি স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও খেলার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিদিনের অনুশীলন, প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ সৌদি ফুটবলারদের আরও পরিণত করেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেই উন্নতির ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

কত দূর যেতে পারে সৌদি আরব?

এই ড্র শুধু এক পয়েন্ট নয়, সৌদি আরবের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস। তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় দলের বিপক্ষেও সমান তালে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের আছে। যদি রক্ষণভাগ একইভাবে দৃঢ় থাকে এবং আক্রমণভাগ সুযোগগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে নকআউট পর্বে পৌঁছানো তাদের জন্য অসম্ভব নয়।

বিশ্বকাপের পথ অবশ্যই কঠিন। কিন্তু উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার পর সৌদি আরবকে আর শুধুই ‘চমক’ বলা যাবে না। বরং তারা এখন এমন একটি দল, যারা এই বিশ্বকাপে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেই পারে।