
প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দাপুটে প্রত্যাবর্তন
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিল সমর্থকেরা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিল লা রোহা। শুরু থেকেই নিজেদের চেনা টিকি-টাকা ফুটবল খেলতে থাকা স্পেন ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে শিরোপার দাবিদার হিসেবে শক্ত বার্তা দিল।
শুরুর দাপট, প্রথম দশ মিনিটেই লামিন ইয়ামালের গোল
ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্পেন। দ্রুত পাসিং, দারুণ পজিশনিং এবং উইং ব্যবহার করে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পায় স্পেন। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ দারুণ ফিনিশিংয়ে জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের পর স্পেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং পুরো প্রথমার্ধে বলের দখল নিজেদের কাছেই রাখে।
এরপর স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ব্যবধান বাড়ায়। সৌদি আরবের রক্ষণ একাধিকবার চাপ সামলানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের নিখুঁত পাসিং ও দ্রুত আক্রমণের সামনে তারা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ ধরে রেখে আরও তিনটি গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
মাঝমাঠের দখলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ
এই ম্যাচে স্পেনের জয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি ছিল তাদের মাঝমাঠ। পেদ্রি, রদ্রি এবং গাভি বলের দখল ধরে রেখে পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ছোট ছোট পাস, দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষের মাঝমাঠকে ভেঙে দেওয়ার দক্ষতা স্পেনকে বারবার আক্রমণে উঠতে সাহায্য করেছে। সৌদি আরব বলের দখল ফিরে পাওয়ার সুযোগই খুব কম পেয়েছে।
আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্য
আক্রমণে লামিন ইয়ামালের পাশাপাশি স্পেনের অন্যান্য ফরোয়ার্ডরাও ছিলেন দুর্দান্ত। উইং দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ, বক্সের ভেতরে কার্যকর মুভমেন্ট এবং নিখুঁত ফিনিশিং স্পেনকে বড় ব্যবধানে জয় এনে দেয়। অন্যদিকে রক্ষণভাগেও ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স। প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ দ্রুত ভেঙে দিয়ে ডিফেন্ডাররা গোলরক্ষকের ওপর চাপ খুব কমই পড়তে দেন। ফলে পুরো ম্যাচেই ক্লিন শিট ধরে রাখতে সক্ষম হয় স্পেন।
কোচের কৌশলেই মিলল সাফল্য
স্পেনের প্রধান কোচ শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং এবং বলের দখল ধরে রাখার কৌশল গ্রহণ করেন। খেলোয়াড়দের ঘন ঘন পজিশন পরিবর্তন এবং দুই উইংকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। ম্যাচজুড়ে স্পেনের কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যই বড় ব্যবধানের জয়ের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
তরুণ ইয়ামাল, শিরোপার স্বপ্ন এবং স্পেনের ইতিহাস
মাত্র অল্প বয়সেই লামিন ইয়ামাল আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার বলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার পাশাপাশি আক্রমণে তার গতি ও সৃজনশীলতা স্পেনের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠছে। স্পেন এর আগে ২০১০ সালে একবার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছিল। এবারের দলেও অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের দারুণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। যদি তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বকাপের শেষ পর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার এবং আবারও শিরোপার জন্য লড়াই করার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে।

