স্পেনের হার উদযাপন করা ছেলেটিই আজ স্পেনের বিশ্বকাপ যোদ্ধা

তাজা খবর

বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন লামিন ইয়ামাল। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্পেনের কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মরক্কো বংশোদ্ভূত এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নাগরিক। ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পরও কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বড় হতে হয়েছে ইয়ামালকে।

শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অসাধারণ আকর্ষণ। বার্সেলোনার উপকণ্ঠে বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় ও ছোট মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল খেলতেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই তার প্রতিভা নজরে আসে স্থানীয় কোচদের।

লা মাসিয়ায় যাত্রা, বদলে যায় জীবন

মাত্র সাত বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামাল। বিশ্বের সেরা ফুটবল একাডেমিগুলোর অন্যতম এই প্রতিষ্ঠান থেকেই উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি ও সের্হিও বুসকেতসের মতো কিংবদন্তিরা।

লা মাসিয়ায় যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন ইয়ামাল। তার গতি, ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোচদের মুগ্ধ করে। বয়সভিত্তিক প্রতিটি দলেই তিনি ছিলেন অন্যতম সেরা পারফরমার।

কেন মরক্কোকে সমর্থন করেছিলেন?

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে কিশোর লামিন ইয়ামালকে মরক্কোর জয় উদযাপন করতে দেখা যায়। সেই সময় মরক্কো স্পেনকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিল।

অনেকেই বিষয়টিকে বিতর্ক হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এর পেছনে ছিল তার পারিবারিক শিকড়। ইয়ামালের বাবা মরক্কো বংশোদ্ভূত হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই মরক্কোর সংস্কৃতি ও ফুটবলের সঙ্গে তার আবেগগত সম্পর্ক ছিল। তাই মরক্কোর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করাটা ছিল ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তিনি স্পেনকেই বেছে নেন। কারণ জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ফুটবলীয় বিকাশ—সবকিছুই স্পেনের ফুটবল কাঠামোর মধ্যেই হয়েছে।

স্পেনের জার্সিতে উত্থানের বিস্ময়

২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় ইয়ামালের। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে ইতিহাস গড়েন তিনি। এরপর ইউরোপীয় ফুটবলে তার উত্থান যেন রকেটগতিতে এগোতে থাকে।

বার্সেলোনার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন এই তরুণ উইঙ্গার। ডান প্রান্ত থেকে তার আক্রমণ, দ্রুত গতি পরিবর্তন এবং ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা স্পেনের আক্রমণভাগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

অল্প বয়সেই তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বিশ্বকাপে স্পেনের বড় অস্ত্র

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে লামিন ইয়ামালকে। তার সৃজনশীলতা, গতি এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রাখতে পারে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তরুণ এই তারকার ওপর নজর থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্বের। চার বছর আগে যে কিশোর মরক্কোর জয় উদযাপন করেছিলেন, আজ সেই লামিন ইয়ামালই স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের অন্যতম প্রধান সৈনিক। ফুটবলের সৌন্দর্য হয়তো এখানেই—সময় বদলায়, গল্প বদলায়, আর নতুন নায়কদের জন্ম হয়।