বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর মাথাব্যথার কারণ হতে পারে এই ৫ দল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের নিয়ে আলোচনা। তবে প্রতিটি বিশ্বকাপেই কিছু দল থাকে যারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও বড় বড় দলকে বিপদে ফেলে দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপেও এমন কয়েকটি দল রয়েছে যারা আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও সুযোগ পেলে যে কাউকে চমকে দিতে পারে।

১. মরক্কো

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। অনেকেই ভেবেছিলেন সেটি ছিল একবারের বিস্ময়, কিন্তু গত কয়েক বছরে দলটি নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। ডিফেন্সে আসরাফ হাকিমি এখনও দলের অন্যতম ভরসা, আর মাঝমাঠে সোফিয়ান আমরাবাত ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোতে খেলা একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে মরক্কো যে কোনো পরাশক্তির জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে।

২. জাপান

এশিয়ার সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি জাপান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি, স্পেনের মতো দলকে হারিয়ে তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় দলের বিরুদ্ধে খেলতে তাদের আর কোনো ভয় নেই। জাপানের শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং দলগত সমন্বয়। মিডফিল্ডে তাকেফুসা কুবো ও আক্রমণে কাওরু মিতোমার মতো ফুটবলাররা যে কোনো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারলে তারা বড় চমক দেখাতে সক্ষম।

৩. দক্ষিণ কোরিয়া

সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া সবসময়ই লড়াকু একটি দল। ইউরোপে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার নিয়ে তাদের স্কোয়াড আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। কোরিয়ার শক্তি তাদের গতি, ফিটনেস এবং আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা। টটেনহ্যামের তারকা সন একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। অনুকূল ড্র পেলে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডের গণ্ডি পেরিয়েও যেতে পারে।

৪. উজবেকিস্তান

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে আসা উজবেকিস্তান অনেকের নজরের বাইরে থাকলেও দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এশিয়ান ফুটবলে গত কয়েক বছরে তাদের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। দলের সবচেয়ে বড় তারকা আব্দুকোদির খুসানোভ, যিনি ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং পরিশ্রমী মাঝমাঠ উজবেকিস্তানকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাদের সাহসী ফুটবল বড় দলগুলোকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

৫. কানাডা

সহ-আয়োজক হওয়ার পাশাপাশি কানাডা বর্তমানে উত্তর আমেরিকার অন্যতম উন্নয়নশীল ফুটবল শক্তি। আলফোনসো ডেভিস এবং জোনাথন ডেভিডের মতো তারকাদের নিয়ে তাদের আক্রমণভাগ অত্যন্ত গতিশীল। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা এবং উচ্চ গতির ফুটবল কানাডার প্রধান অস্ত্র। ঘরের মাঠের সমর্থনও তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। সঠিক দিনে খেলতে পারলে কানাডা যে কোনো বড় দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে।

শেষ কথা

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, ট্রফি জেতার জন্য শুধু বড় নামই যথেষ্ট নয়। শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং সঠিক মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ক্ষমতাই অনেক সময় ভাগ্য বদলে দেয়। মরক্কো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উজবেকিস্তান এবং কানাডা হয়তো শিরোপার প্রধান দাবিদার নয়, কিন্তু তারা এমন দল যারা এক রাতেই টুর্নামেন্টের গল্প বদলে দিতে পারে। আর সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের নজরে রাখা উচিত এই পাঁচ আন্ডারডগকে।