
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে আলোড়ন তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তার দিকে ছিল কোটি কোটি সমর্থকের চোখ। সেই প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েও আবারও জ্বলে উঠলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করেও দমে যাননি তিনি। বরং ৩৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর যোগ করা সময়ের ৯৫তম মিনিটে আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে টানা দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পেনাল্টি মিস, তারপরই মেসির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পলের নেতৃত্বে মাঝমাঠ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রাখে স্কালোনির দল। ম্যাচের প্রথম দিকেই লাউতারো মার্তিনেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে VAR-এর সাহায্যে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিকে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। তবে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি।
কিন্তু সেই ব্যর্থতা তার আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মেসি। ৩৮তম মিনিটে দারুণ এক দলগত আক্রমণের পর ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত বাম পায়ের শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে যোগ করা সময়ের ৯৫তম মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত গোল করে জয়ের সিলমোহর বসান।
রক্ষণ ও মাঝমাঠে দুর্দান্ত ভারসাম্য
শুধু আক্রমণ নয়, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগও ছিল প্রশংসার দাবিদার। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ অস্ট্রিয়ার প্রতিটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন দৃঢ়তার সঙ্গে। ফুল-ব্যাকরাও আক্রমণে ওঠার পাশাপাশি দ্রুত রক্ষণে ফিরে এসে ভারসাম্য বজায় রাখেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ক্লিন শিট উপহার দেন।
মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ও ডি পল বলের দখল ধরে রেখে আর্জেন্টিনার আক্রমণের ছন্দ বজায় রাখেন। দ্রুত ছোট পাস, প্রেসিং এবং বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তারা অস্ট্রিয়াকে ম্যাচে ফিরতে দেননি।
আক্রমণে মেসিই ছিলেন মূল ভরসা
এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিওনেল মেসি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার কাজও করেছেন সমান দক্ষতায়। লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ এবং ডান প্রান্তের উইঙ্গারদের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেসির দুটি গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক যোগ করলেন আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।
শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে আর্জেন্টিনা
দুই ম্যাচে টানা জয়, শক্তিশালী রক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠ এবং আক্রমণে মেসির অসাধারণ নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও জানিয়ে দিল, তারা কেবল নকআউটে ওঠার জন্য নয়, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে। দলটির পারফরম্যান্সে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির দারুণ সমন্বয় ফুটে উঠছে, যা শিরোপার লড়াইয়ে তাদের অন্যতম বড় দাবিদার করে তুলেছে।
এবার অপেক্ষা জর্ডান ম্যাচের
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ জর্ডান। ভারতীয় সময় ২৮ জুন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ। গ্রুপপর্ব শতভাগ জয়ে শেষ করে নকআউটে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

