
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে জাপান। ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে ডাচদেরই এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে জাপান আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে শুধু তারকার নাম নয়, দলগত শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস বলের দখল নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে। ডাচ মিডফিল্ডাররা ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তুললেও জাপান তাদের স্বাভাবিক কৌশলেই খেলতে থাকে। রক্ষণভাগে সুশৃঙ্খল অবস্থান এবং বল পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক—এই ছিল জাপানের মূল পরিকল্পনা। প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও জাপানি ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় নেদারল্যান্ডস সহজে গোলের সুযোগ পায়নি।
মাঝমাঠে জাপানের খেলোয়াড়রা দারুণ পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে বল কেড়ে নেওয়ার পর দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার প্রবণতা ডাচদের বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে। উইং দিয়ে গতি বাড়িয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপান ছিল অত্যন্ত কার্যকর। তাদের দ্রুত পাসিং এবং অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট ম্যাচজুড়েই নজর কেড়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করলে ম্যাচে আসে গোলের বন্যা। নেদারল্যান্ডস তাদের শারীরিক শক্তি ও উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করলেও জাপান বারবার ম্যাচে ফিরে আসে। কোনো সময়ই তারা আত্মবিশ্বাস হারায়নি। বরং গোল হজম করার পর আরও দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে ডাচ রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছে।
জাপানের আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কাওরু মিতোমা এবং তাকেফুসা কুবোর মতো তারকারা। তাদের গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতা নেদারল্যান্ডসের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অধিনায়ক পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা গেছে জাপানি দলগত ফুটবলে। পুরো দল হিসেবে জাপান ছিল অসাধারণ।
রক্ষণভাগেও জাপান প্রশংসার দাবিদার। নেদারল্যান্ডসের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে ডিফেন্ডাররা শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান বজায় রেখেছেন। গোলরক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বিশেষ করে শেষ দিকে ডাচদের চাপ সামলে ড্র নিশ্চিত করা জাপানের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
এই ড্র শুধু একটি পয়েন্ট অর্জনের গল্প নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে জাপানের ক্রমবর্ধমান শক্তিরও বার্তা। ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে সমানে সমান লড়াই করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে নকআউট পর্বে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। বর্তমান স্কোয়াডের গতি, শৃঙ্খলা, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং দলগত বোঝাপড়া বিবেচনায় জাপানকে এবার বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ বললে ভুল হবে না।
বিশ্বকাপের পথ এখনও দীর্ঘ। তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে জাপানের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। যদি তারা একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে শুধু গ্রুপ পর্ব পেরোনো নয়, নকআউট পর্বেও বড় বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরও দূর পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে এশিয়ার এই ফুটবল শক্তি।

