রোনাল্ডোর পর্তুগালকে রুখে দিল দুর্দান্ত কঙ্গো

আজকের খেলা

বিশ্বকাপের দিনটা শুরু হয়েছিল আলোড়ন দিয়ে। সকালে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে জয়ই এনে দেয়নি, তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও পৌঁছে দেয়। ফলে কয়েক ঘণ্টা পর মাঠে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, ডিআর কঙ্গোর মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করে পর্তুগালকে সহজ জয় এনে দেবেন অধিনায়ক। পর্তুগালকেও টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব বদলে দেয় কঙ্গো।

নেভেজের শুরু, উইসার জবাব

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে পর্তুগাল। ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেজের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। দ্রুত গোল পাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানে জিতবে পর্তুগাল। রোনাল্ডো, রাফায়েল লেয়াও, ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং বের্নার্দো সিলভারা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মিলছিল না। কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয়, আবার কঙ্গোর গোলরক্ষকও দারুণ কিছু সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ৪৫+৫ মিনিটে ইয়োয়ানে উইসা দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান। সেই গোলে নতুন করে আত্মবিশ্বাস পায় আফ্রিকার দলটি।

কঙ্গোর সাহসী ফুটবলে হতাশ পর্তুগাল

দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। রোনাল্ডো কয়েকবার বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছালেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ছিল অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। মাঝমাঠেও দারুণ লড়াই করে কঙ্গোর ফুটবলাররা। তারা শুধু রক্ষণ সামলায়নি, সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে পর্তুগালকে চাপে ফেলেছে।

পর্তুগাল বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও সেই আধিপত্যকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রোনাল্ডোদের। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল ডিআর কঙ্গো।

সামনে কী অপেক্ষা করছে পর্তুগালের?

প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় না পাওয়ায় এখন চাপ বেড়েছে পর্তুগালের ওপর। তবে এই দলে অভিজ্ঞতা, তারকা ফুটবলার এবং আক্রমণভাগের বৈচিত্র্যের কোনো অভাব নেই। যদি তারা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে এবং রক্ষণে আরও মনোযোগী হয়, তাহলে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বকাপে একটি ড্র কখনোই শেষ কথা নয়। বরং এই ফলাফল পর্তুগালকে নিজেদের দুর্বলতা বুঝে সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে। রোনাল্ডোর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, ব্রুনো ফার্নান্দেজের সৃজনশীলতা, নেভেজের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স এবং দলের সামগ্রিক মান বিবেচনায় এখনো পর্তুগালকে নকআউট পর্বের শক্তিশালী দাবিদারই ধরা যায়। তবে পরের ম্যাচগুলোতে আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই। শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও সঠিক ছন্দে ফিরতে পারলে এই দল অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।